Prof Muhammad Khaled
অধ্যাপক মােহাম্মদ খালেদের জন্ম ভারতের বিহার রাজ্যের পাটনাতে । ১৯২২ সালের ৬ জুলাই তিনি জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর শৈশবও কাটে পাটনাতে । তাঁর পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে।তাঁর পিতার নাম আবদুল হাদী , মাতার নাম তামান্না বেগম । আবদুল হাদীর পাঁচ ছেলে – মেয়ের মধ্যে মােহাম্মদ খালেদ সবার বড়।

কোলকাতা ইসলামিয়া কলেজে পড়ার সময় তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সংস্পর্শে আসেন । বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে তিনি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন । কোলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালে তিনি ব্রিটিশবিরােধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন । ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন মুসলিমলীগ ভেঙে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এই দলের সাথে সম্পৃক্ত হন । মাওলানা ভাষানী , সােহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সারা দেশে আওয়ামী মুসলিম লীগের সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরির উদ্যোগ নিলে অধ্যাপক মােহাম্মদ খালেদ সে উদ্যোগের সাথে যুক্ত হয়ে চট্টগ্রামে সংগঠনের কাজে নেমে পড়েন ।পরবর্তিতে দলটি অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করতে নামের অংশ থেকে মুসলিম বাদ দিয়ে আওয়ামীলীগ নাম ধারণ করে গণমানুষের রাজনীতি শুরু করলে বাঙালিদের মধ্যে নবজাগরণ সৃষ্টি হয় । পরবর্তিতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাঙ্গালির অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শুরু হলে তিনি চট্টগ্রামে সে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিতে থাকেন । ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী । হিসাবে রাউজান – হাটহাজারী নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তকালিন পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পীকার মুসলিম লীগের প্রভাবশালী নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীকে পরাজিত করে এমএনএ নির্বাচিত হয়ে সমগ্র পাকিস্তানে আলােড়ন সৃষ্টি করেন । ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর দিকনির্দেশনামূলক ঐতিহাসিক ভাষণের পর সমগ্র পূর্ব পাকিস্থানে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হলে চট্টগ্রামে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট যথাক্রমে জহুর আহমদ চৌধুরী , এম.এ. হান্নান , এম.এ. মান্নান , এম.আর সিদ্দিকি ও অধ্যাপক মােহাম্মদ খালেদকে নিয়ে সংগ্রাম কমিটি গঠিত হয় । তিনি এই কমিটির একজন সদস্য হিসাবে আন্দোলন সগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বাঙালির মুক্তিসংগ্রামকে মুক্তিযুদ্ধে পরিণত করতে ভূমিকা রাখেন । এ সময় চট্টগ্রামে স্বাধীনবাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায়ও তিনি ভূমিকা রাখেন । ৭১ এ মুক্তিযুদ্ধকালে তিনি প্রবাসি মুজিব নগর সরকারের তথ্যমন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপালন করেন । তিনি মুক্তিযুদ্ধের মুখপত্র হিসাবে প্রকাশিত ‘ জয় বাংলা পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলির সদস্য হিসাবে পত্রিকা সম্পাদনায় ভূমিকা রাখেন । ১৯৭২ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের জন্য গঠিত ৩২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সদস্য হিসাবে সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন । ১৯৭৩ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের পক্ষে নির্বাচন করে এমপি নির্বাচিত হন । ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার বাকশাল প্রতিষ্ঠিত করলে তিনি বাকশাল চট্টগ্রাম উত্তর জেলার গভর্ণর নির্বাচিত হন ।